রাতের তীব্র চুলকানি? স্ক্যাবিসের লক্ষণ, কারণ ও চিকিৎসা | আরাকো
Posted on Feb 22, 2026
রাত ২টায় ঘুম ভাঙলো… আবার সেই চুলকানি! এটা শুধু চুলকানি নয়—এটা স্ক্যাবিস। ছোট্ট একটা মাইট আপনার ত্বকে সুড়ঙ্গ খুঁড়ে বাসা বানিয়েছে। আর সে রাতে বেশি সক্রিয় হয়!
Minimize image
Edit image
Delete image

স্ক্যাবিস একটি অত্যন্ত সংক্রামক ত্বকের রোগ, যা ছোট্ট একটি পরজীবী মাইটের কারণে হয়। অনেকেই এটিকে সাধারণ চুলকানি ভেবে এড়িয়ে যান—কিন্তু বিষয়টা মোটেও হালকা নয়। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না নিলে এটি দ্রুত পরিবার ও আশেপাশের মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই চলুন, সহজ ভাষায় স্ক্যাবিস সম্পর্কে সবকিছু জেনে নেওয়া যাক।
স্ক্যাবিস কী?
স্ক্যাবিস হলো একটি highly contagious ত্বক সংক্রমণ, যা Sarcoptes scabiei নামের ক্ষুদ্র মাইটের মাধ্যমে হয়। এই মাইট ত্বকের উপরের স্তর ভেদ করে নিচে সুড়ঙ্গ তৈরি করে এবং সেখানে ডিম পাড়ে। ফলাফল? তীব্র চুলকানি, লালচে র্যাশ এবং অস্বস্তিকর প্রদাহ।
Minimize image
Edit image
Delete image

এটি সাধারণত দীর্ঘ সময় ধরে শারীরিক সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায়—যেমন:
স্ক্যাবিস যেকোনো বয়সের মানুষের হতে পারে এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার প্রবণতা রাখে। সঠিক চিকিৎসা না করলে সংক্রমণ জটিল আকার ধারণ করতে পারে।
আরাকো ডায়াগনস্টিক এন্ড কনসালটেশন সেন্টার-এর বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে যথাযথ পরীক্ষা ও চিকিৎসা গ্রহণ করলে স্ক্যাবিস থেকে দ্রুত মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
স্ক্যাবিস কীভাবে ছড়ায়?
স্ক্যাবিস মূলত দীর্ঘস্থায়ী ত্বক-সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায়। তবে শুধু সরাসরি সংস্পর্শই নয়—ব্যবহৃত সামগ্রীও সংক্রমণের মাধ্যম হতে পারে।
Minimize image
Edit image
Delete image

সংক্রমণের সাধারণ উপায়:
- ঘনিষ্ঠ শারীরিক সংস্পর্শ – হাত ধরা, আলিঙ্গন, একই বিছানায় শোয়া
- ব্যক্তিগত সামগ্রী ভাগাভাগি করা – পোশাক, তোয়ালে, বিছানার চাদর
- জনাকীর্ণ পরিবেশে বসবাস – শরণার্থী শিবির, নার্সিং হোম, ডরমিটরি
- যৌন সংস্পর্শ – দীর্ঘস্থায়ী ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মাধ্যমে সংক্রমণ হতে পারে
তাই সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন আক্রান্ত হলেই পুরো পরিবার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
স্ক্যাবিসের লক্ষণ
স্ক্যাবিস সংক্রমণের পর লক্ষণ দেখা দিতে সাধারণত ২–৬ সপ্তাহ সময় লাগে। তবে আগে আক্রান্ত হয়ে থাকলে কয়েক দিনের মধ্যেই লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
প্রধান লক্ষণগুলো হলো:
- রাতে তীব্র চুলকানি – সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ
- লালচে ফুসকুড়ি বা ছোট গুটি
- ত্বকের নিচে পাতলা, আঁকাবাঁকা সুড়ঙ্গের মতো দাগ
- অতিরিক্ত চুলকানোর ফলে ক্ষত বা ঘা
চুলকানি এতটাই তীব্র হতে পারে যে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। দীর্ঘদিন অবহেলা করলে ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণও হতে পারে।
লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া উচিত। আরাকো ডায়াগনস্টিক এন্ড কনসালটেশন সেন্টার সঠিক নির্ণয় ও চিকিৎসা প্রদান করে থাকে।
স্ক্যাবিসের কারণ
স্ক্যাবিসের মূল কারণ হলো Sarcoptes scabiei মাইট। স্ত্রী মাইট ত্বকের নিচে সুড়ঙ্গ তৈরি করে ডিম পাড়ে। কয়েক দিনের মধ্যে ডিম ফুটে নতুন মাইট জন্মায় এবং সংক্রমণ ছড়াতে থাকে।
চুলকানির আসল কারণ হচ্ছে শরীরের অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া—মাইট, তাদের ডিম ও বর্জ্যের বিরুদ্ধে শরীর প্রতিরোধ গড়ে তোলে। আর এই প্রতিক্রিয়াই অস্বস্তির মূল উৎস।
স্ক্যাবিসের ধরন ও জটিলতা
স্ক্যাবিস সবসময় একই রকম নয়। এর কয়েকটি ধরন রয়েছে:
১. ক্লাসিক স্ক্যাবিস
সবচেয়ে সাধারণ ধরন। লালচে র্যাশ ও তীব্র চুলকানি থাকে।
২. ক্রাস্টেড স্ক্যাবিস (নরওয়েজিয়ান স্ক্যাবিস)
গুরুতর রূপ। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম এমন ব্যক্তিদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। ত্বকে পুরু, খসখসে আবরণ তৈরি হয় এবং এটি অত্যন্ত সংক্রামক।
৩. নোডুলার স্ক্যাবিস
ত্বকে উঁচু, নরম গুটি দেখা যায়—বিশেষ করে কুঁচকি, বগল বা যৌনাঙ্গের আশেপাশে।
সম্ভাব্য জটিলতা:
অবহেলা করলে সমস্যা বাড়বেই—কমবে না।
স্ক্যাবিসের চিকিৎসা
স্ক্যাবিস কখনোই নিজে থেকে ভালো হয় না। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
Minimize image
Edit image
Delete image

আরাকো ডায়াগনস্টিক এন্ড কনসালটেশন সেন্টার-এর মাধ্যমে সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা যায়।
চিকিৎসার প্রধান পদ্ধতি:
ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পুরো শরীরে ক্রিম ব্যবহার করতে হয়। এটি মাইট ও তাদের ডিম ধ্বংস করে।
Minimize image
Edit image
Delete image

গুরুতর বা ক্রাস্টেড স্ক্যাবিসের ক্ষেত্রে খাওয়ার ওষুধ ব্যবহার করা হয়।
পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যদেরও একইসাথে চিকিৎসা নেওয়া উচিত, নাহলে পুনরায় সংক্রমণ হতে পারে।
স্ক্যাবিস প্রতিরোধের উপায়
স্ক্যাবিস যাতে আবার না হয়, সেজন্য কিছু সতর্কতা জরুরি:
Minimize image
Edit image
Delete image

- পরিবারের সবাইকে চিকিৎসার আওতায় আন
- পোশাক, তোয়ালে ও বিছানার চাদর গরম পানিতে ধোয়া
Minimize image
Edit image
Delete image

- ধোয়া যায় না এমন কাপড় ৭২ ঘণ্টা সিল করা ব্যাগে রাখা
- ফার্নিচার ও গদি ভ্যাকুয়াম করা
- চিকিৎসা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ এড়ানো
আরাকো ডায়াগনস্টিক এন্ড কনসালটেশন সেন্টার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে থাকে, যাতে আপনি ও আপনার পরিবার সুরক্ষিত থাকতে পারেন।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি?
নিচের লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন:
- চুলকানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া
- নতুন নতুন স্থানে র্যাশ ছড়ানো
- পুঁজভরা ক্ষত হওয়া
- পরিবারের অন্য সদস্যদের একই উপসর্গ দেখা দেওয়া
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে আজই যোগাযোগ করুন।
আরাকো ডায়াগনস্টিক এন্ড কনসালটেশন সেন্টার
বাসা-৩ (বাংলা স্কুল বালক শাখার সামনে) এভিনিউ-১, ব্লক-এ, সেকশন-১১, মিরপুর, ঢাকা
📞 01404434863, 01404434865
সময়মতো পদক্ষেপ নিলে স্ক্যাবিস পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব—দ্বিধা না করে ব্যবস্থা নিন।
স্ক্যাবিস সম্পর্কে সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQs)
স্ক্যাবিস কি চিকিৎসা ছাড়াই সেরে যায়? না, চিকিৎসা ছাড়া স্ক্যাবিস ভালো হয় না।
স্ক্যাবিস সেরে যেতে কতদিন লাগে? সঠিক চিকিৎসায় ১–২ সপ্তাহের মধ্যে উন্নতি দেখা যায়, তবে চুলকানি কিছুদিন থাকতে পারে।
পোষা প্রাণী থেকে স্ক্যাবিস সংক্রমিত হতে পারে? না, মানুষের স্ক্যাবিস মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
স্ক্যাবিস কি যৌনবাহিত রোগ (STD)? না। যদিও যৌন সংস্পর্শে ছড়াতে পারে, এটি কেবল যৌনবাহিত রোগ নয়।